
আবদুল মজিদ, চকরিয়া:
চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রাজারবিল গ্রামে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক যোগযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় গতকাল দু'চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত শতাধিক লোক আহত হয়েছে। উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও প্রায় ৩০রাউন্ড গুলি বিনিময়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। পরে বিক্ষুদ্ধ
জনতার প্রতিরোধের মুখে আওয়ামীলীগের সমর্থকরা পালিয়ে গেলে সালাহ উদ্দিন আহমদ নিরাপদে চকরিয়া পৌর সদরে ফিরে আসেন।জানাযায়, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরীর সমর্থনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব সালাহ উদ্দিন আহমদ গতকাল শুক্রবার ছাইরাখালী মাদরাসা মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে এক বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে সাড়ে ৩টার দিকে রাজারবিল গ্রাম থেকে গণসংযোগ শুরু করে। এখবর গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যানের সমর্থকদের কানে পৌঁছলে তারা সালাহ উদ্দিনের গাড়ী বহর গতিরোধ করে। এতে করে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পযনর্ত্ম দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষে হাজার হাজার কর্মী সমর্থক জড়ো হতে থাকে। খবর পেয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেনের নেতৃত্বে থানার ওসি (তদন্ত) মো: আনোয়ার হোসেন একদল পুলিশ ও ররযাব নিয়ে উভয় পৰের মাঝখানে অবস্থান নেয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবকে গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকরা অবরম্নদ্ধ করে রেখেছে খবর ছড়িয়ে পড়লে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নসহ আশে পাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার বিএনপির নেতাকর্মী ফাঁসিয়াখালীতে এসে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। পরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মারমুখী অবস্থায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুরে সরে পড়লে সালাহউদ্দিন আহমদ তার নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজারবিল গ্রাম থেকে গাড়ী বহর সহকারে ভাঙ্গারমুখ হয়ে চকরিয়া শহরে চলে আসে। ঘটনা চলাকালীন সময়ে ফাঁসিয়াখালীর সিকদার পাড়া গ্রামের সিকান্দর মেম্বারের পুত্র হেলাল উদ্দিনসহ আরো কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। ইটপাটকেল ও লাঠি পেঠায় আহত হয়েছে সাবেক মেম্বার মো: শফি, মিজান, জনি, আশেক, ওসমান, জাকের, আমিনুল ইসলাম,বেলাল উদ্দিন, একরাম, শাহা আলম, রানা হামিদসহ উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।
এদিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী হামলায় গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তাকে পুলিশ পাহারায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জাকির হোসেন চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে আসে, তার অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। হামলা চলাকালীন সময়ে পুলিশের মটর সাইকেল ও চেয়ারম্যান প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত একটি জীপ গাড়ীও ভাংচুর করা হয়েছে। পেকুয়া থেকে আসা একদল উশৃংখল কর্মীর হামলায় রাজারবিল এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়িও ভাংচুর হয়েছে। বর্তমানে এঘটনাকে কেন্দ্র করে চকরিয়া উপজেলায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ক্যাপশন: অবরুদ্ধ অবস্থা অতিক্রম করছেন সালাহ উদ্দিন আহমদ, ভাংচুরকৃত জীপ, আহত কর্মী ও গিয়াস উদ্দিন চৌং।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন