সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন : তুঙ্গে এখন উখিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা

ইউএনটি ডেস্ক
উখিয়া উপজেলার ৫ ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২জুলাই। নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। এ উপজেলার শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উঠে পড়ে লেগেছে প্রার্থীরা। ছোট খাট বৈঠক থেকে শুরু করে পথসভা পরবর্তী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্না দিচ্ছে। পোষ্টার ব্যানার, লিফলেটে ছেয়ে গেছে ৫ ইউনিয়নের
অলি গলি ও হাটবাজার। ছোট খাট কয়েকটি অভিযোগ থাকলেও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রশাসন। জনমত জরিপে জানা গেছে, ৫ ইউনিয়নে দ্বি-মুখী ও ত্রি-মুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  নির্বাচনে প্রার্থীদের দলগতভাবে মনোনয়ন দিলেও এখানকার ভোটারদের মাঝে দলগত মনোভাব তেমন নেই। প্রার্থীদের পারিবারিক ঐতিহ্য, আত্মীয়তার টান সর্বোপরি আঞ্চলিকতা এখানে বেশি প্রধান্য পাচ্ছে। এ পর্যন্ত উপজেলার ৫ নম্বর পালংখালী ইউনিয়নের একাধিক প্রবীণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ইউনিয়নের পারিবারিক বিশাল ঐতিহ্য নিয়ে নির্বাচনী দৌঁড়ে এগিয়ে আছেন শাহাদৎ হোসেন জুয়েল, এম মোক্তার আহম্মদ ও গফুর উদ্দিন চৌধুরী। শাহাদৎ হোসেন জুয়েল বলেন, বিগত চেয়ারম্যানের ৮ বছর দায়িত্ব পালনে পালংখালীর সার্বিক বিষয় মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই জনগণ তার ডাকে স্বতঃস্পূর্ত সাড়া দিচ্ছে। এখানে কালো টাকার থাবা না পড়লে তার বিজয় সু-নিশ্চিত। ৪নম্বর রাজাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, শাহ কামাল চৌধুরী ও মুজিবুল হক আজাদ ৩ জনেরই বংশগত ঐতিহ্য বিদ্যমান। এই ইউনিয়নের দক্ষিণে জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, উত্তরে শাহ কামাল চৌধুরী ও মাঝখানে মুজিবুল হক। জনমত জরীপে এখানে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, বৃহত্তর গরীব দুস্থ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচনে নেমেছি জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। ৩নম্বর হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে কামাল উদ্দিন মিন্টু, ফজল করিম সিকদার ও শামশুল হক বাবুলের মধ্যে ত্রি-মুখী ভোট যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা বললেন স্থানীয় একাধিক বিজ্ঞ  ভোটার। এখানে সম্ভাবনাময়ী প্রার্থী কামাল উদ্দিন মিন্টু সাংবাদিকদের জানান, বিগত নির্বাচনে সামান্য ভুলের কারণে এবং দীর্ঘ ২০ বছর বিদেশে অবস্থান করায় ভোটারদের সাথে দুরুত্ব বেড়ে গিয়েছিল। যে কারণে তাকে ৫বছর ভুলের মাশুল গুণতে হয়েছে। এবার জনগণ ভুল করবে না। ২নম্বর রত্নাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল কবির চৌধুরীর পক্ষে আঞ্চলিকতার লাল সূর্য্য উদয় হয়েছে বলে ভোটারদের অভিমত। তবে আদিল চৌধুরী ও নুরুল হুদা যেভাবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে তাতে শেষ দৌড়ে কে জিতে আর কে হারে তা বলা মুশকিল। প্রার্থীদের অভিমত, ভোটারদের কাছে যে প্রার্থী যায় তাকে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দেয়। আপাতত ভোটাররা খালি হাতে কোন প্রার্থীকে ফেরাচ্ছে না। জনমত জরীপে এখানেও ত্রি-মুখী লড়াই হতে পারে। ১নম্বর জালিয়া পালং ইউনিয়নে ভোটারদের অভিমত এখানে টাকার খেলা চলছে। এই ইউনিয়ন থেকে এসএম ছৈয়দ আলম, নুরুল আমিন চৌধুরী ও আনোয়ার হোসেন চৌধুরী সহ ৩ জনের পক্ষে সমান তালে ভোটাররা জয়গান গাইতে শুনা যাচ্ছে। তবে শোনা হাসি কে হাসবে এমন মন্তব্য কেউ করছে না।


এদিকে নির্বাচনী মাঠে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ সহ ছোট খাট ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর হয়ে উঠেছে। আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগে নির্বাচন সমন্বয়কারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম ও অফিসার ইনচার্জ নিয়াজ মোহাম্মদ পালংখালী ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে গান গেয়ে প্রচারণার অভিযোগে ৫ জন মেম্বার প্রার্থীর প্রত্যেককে ২শত টাকা করে জরিমানা করেছে। এ সময় এই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী রশীদ আহম্মদের একটি রঙ্গিন ব্যানার উদ্ধার করতে গেলে তার কর্মী সমর্থকরা পুলিশকে বাধা দেয়।  এ নিয়ে প্রশাসনের সাথে বাড়াবাড়ি করার  অপরাধে ওই মেম্বার প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে বলে অফিসার ইনচার্জ নিয়াজ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান।

কোন মন্তব্য নেই: