সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

উখিয়া ডাকাত আতংক এখনো কাটেনি

ইউএনটি রির্পোট
উখিয়া উখিয়ায় উপজেলার বালুখালী শিয়াইল্যাপাড়া, পালংখালীর নলবনিয়া, জালিয়াপালংয়ের ছেপটখালী, হলদিয়া পালংয়ের লম্বরীপাড়া, চৌধুরী পাড়া, পাগলির বিল, রত্নাপালংয়ের তেলীপাড়া, রুহুলার ঢেবা, রাজাপালংয়ের মধুরছড়া গ্রামের প্রায় শতাধিক তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী ডাকাত দীর্ঘদিন যাবৎ ধরাছোয়াঁর বাইরে থেকে যাওয়ার কারণে এখানকার গ্রামীণ জনপদে প্রতিনিয়ত অহরহ ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গণপিটুনিতে ১০ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে জনমনে ডাকাত আতংক বিরাজ করতে দেখা
গেছে। সূত্রে জানা গেছে, চুরি, ডাকাতি, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, ছিনতাই, চোরাচালান, মাদক দ্রব্য, নারী নির্যাতন, ও বন মামলার প্রায় ৫শতাধিক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এ উপজেলার ৫ ইউনিয়নে রয়েছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে হানা দিয়ে বন মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও অন্যান্য মামলার আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিগত বছরে রাজাপালং ইউনিয়নের হাঙ্গরঘোনা গ্রামের এক প্রবাসির বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতদল গুলিবর্ষণ করে গৃহবধূসহ ৭জনকে আহত করে প্রায় ২০লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। এঘটনায় পুলিশ থানার সোর্স মোহাম্মদ শফি প্রকাশ ককটেইল্যা (২৮) নুরুল কবির (২৬) ও আবদুর রহিম (২৫)কে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। অভিজ্ঞজনেরা মনে করছেন থানার সোর্স হিসাবে যারা কাজ করছে তাদের অধিকাংশই ইতোপূর্বে কোন না কোনভাবে ডাকাতির সংগে সক্রিয় ছিল। পুলিশ যখন ডাকাত- সন্ত্রাসী গ্রেফতারে তৎপর হয়ে উঠে, কথিত এই সোর্সরা পুলিশি অভিযান সর্ম্পকে আগাম জানিয়ে দেয়। যেকারণে পুলিশ ডাকাত ধরতে গিয়েও ব্যর্থ হয়। এভাবে ডাকাতেরা বহাল তবিয়তে বিচরণ করতে পেরে একের পর এক বসতবাড়িতে হানা দিয়ে সাধারণ জনগনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করছে। গত ২৫ এপ্রিল রাত ২টায় সশস্ত্র ডাকাতদল রাজাপালং ইউনিয়নের ছাদৃকাটা গ্রামের ৩টি বসতবাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ১১লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে যায়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ডাকাতদল রামু উপজেলার গোয়ালিয়া পালং নতুন পাড়া এলকায় পৌঁছলে স্থানীয় গ্রামবাসি উক্ত ডাকাতদের ধাওয়া করে। এসময় ডাকাতের গুলিতে জসিম উদ্দিন (২৫) নিহত হলে গ্রামবাসি আরো ক্ষেপে গিয়ে ১০ডাকাতকে পিটিয়ে হত্যা করে। গত ২৮ এপ্রিল রাত ১১টায় কঙবাজার-টেকনাফ সড়কে পানের ছড়ার ঢালায় সশস্ত্র ডাকাতদল রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে ৪/৫টি যানবাহনে লুটপাট চালায়। হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। এদিকে ধোয়াপালং, নতুন পাড়া, গোয়ালিয়া পালং, লম্বরী পাড়া এলাকায় প্রতিরাতে ডাকাতেরা হানা দিলেও গ্রামবাসির প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে বলে গ্রামবাসি দাবি করলেও ডাকাতের ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ এপ্রিল রাত ১০টায় সশস্ত্র ডাকাতদল জালিয়া পালং ইউনিয়নে পাইন্যাশিয়া গ্রামে প্রবেশ করলে স্থানীয় গ্রামবাসি মসজিদের মাইকে ডাকাত আগমনের কথা জানিয়ে দেয়। অবস্থা বেগতিক ভেবে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। এছাড়া উপকূলীয় এলাকার ছেংছুরী ও তেলখোলা, মুছারখোলা গ্রামে ডাকাতদল উপজাতীয়দের বাড়িতে হানা দিয়ে খাদ্যদ্রব্য ও মালামাল নিয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় উপজাতি ছৈপুচিং চাকমা অভিযোগ করে জানান। এলাকাবাসি দাবি করছেন সশস্ত্র ডাকাতদলের বিশাল একটি অংশ রোহিঙ্গা নাগরিক। এসব ডাকাতেরা গভীর বনজঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে আবারো বড় ধরনের নাশকতা করতে পারে। এব্যাপারে আলাপকালে হলে অফিসার ইনচার্জ নিয়াজ মুহাম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত ডাকাতদের গ্রেফতার করার জন্য প্রতিরাতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই: