সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পাহাড় আবারো অশান্ত

ইউএনট ডেস্ক
পার্বত্য চট্টগ্রামে আবারো অস্ত্রের ঝনঝনানিতে মানুষের প্রতিটি দিন রাত কাটছে আতঙ্কের মধ্যে। ভ্রাতৃঘাতী এ সংঘাতে গত ১ বছরে প্রাণ গেছে ৩০ জনের। সর্বশেষ রাঙামাটির বরকলে প্রাণ হারিয়েছে ৫ ইউপিডিএফ কর্মী। এর আগে রাজস্থলী, পানছড়ি ও বাঘাইছড়িতে নিহত হয়েছে ২৫ জন। এদিকে প্রতিবার সংঘর্ষের সময় চুক্তিপক্ষের পাহাড়ি জনসংহতি সমিতি ও বিপক্ষের ইউপিডিএফ ব্যবহার করছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। কিন্তু সংঘর্ষ শেষ হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ দু’গ্রুপের কাছ থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে
পারেনি। ফলে দিন যতই যাচ্ছে লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ততই বাড়ছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, উভয়পক্ষ একে-৪৭, এম-১৬ ও এসএমজি’র মতো আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে। ওই গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি হিসেবে ১ বছরে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। এই সংস্থার হিসাব মতে ৩ পার্বত্য জেলায় গত ১ বছরে দু’গ্রুপ শতাধিক বার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। গত ২০ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি এবং খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতে ৩ জনের প্রাণহানি এবং কয়েকশ’ বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর থেকেই মূলত ইউপিডিএফ এবং জনসংহতি সমিতি মুখোমুখি। ইউপিডিএফ শান্তিচুক্তি আপোষ চুক্তি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে এবং জনসংহতি সমিতি জাতীয় বেঈমান ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে।
পার্বত্য শান্তিচুক্তির একযুগ পূর্ণ হলেও মূল বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এ অঞ্চলকে উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের স্বীকৃতি ও এর বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। আইন মোতাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের দায়িত্ব ও ক্ষমতা কার্যকর এবং আঞ্চলিক পরিষদ কার্যবিধিমালাসহ অন্য কোনো বিধিমালা প্রণয়নে উদ্যোগ গ্রহণ, ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদের নিকট যথাযথ দায়িত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর, চুক্তির পর পার্বত্য জেলা পরিষদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হস্তান্তর এবং ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন, প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থীদের ভূমি ফেরত দেয়াসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে ভূমি কমিশনের বৈঠকগুলো থেকে যাচ্ছে অমীমাংসিত।
এছাড়া অপারেশন দাবানল নাম পরিবর্তন করে অপারেশন উওরণ জারি করা হলেও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন হয়নি। পক্ষান্তরে চুক্তি লঙ্ঘন করে ৩৮ হাজার ১২২ পরিবারকে আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করা, রাবার চাষসহ অন্যান্য খাতে প্রদত্ত জমির লিজ এখনো বাতিল না করে লিজ দেয়া অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলের সকল চাকরিতে পাহাড়িদের অগ্রাধীকার ভিত্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে রুজুকৃত আরো ১১৪টি মামলা এবং সামরিক আদালতে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার হয়নি। পাশাপাশি ৭২০টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও এখনো সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ১৯৯৭-২০০১ সময়কালে বাস্তবায়িত চুক্তির মধ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর চুক্তিটি মন্ত্রী পরিষদে পাস হয় এবং গেজেট জারি করা হয়। ১৯৯৮ সালে ৪ দফায় জনসংহতি সমিতির সদস্যদের অস্ত্র জমাদান এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়। তাদেরকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা প্রদান, ১৯৯৮ সালের ৩, ৪ ও ৫ মে যথাক্রমে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন)আইন ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন ১৯৯৮ পাস, ১৯৯৮ সালের ৬ মে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন পাস করা হয় এবং ১৯৯৯ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তীকালীন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠন; অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার; ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তি মোতাবেক ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে জুম্ম শরণার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং অধিকাংশ পরিবারকে অর্থনৈতিক সুবিধাদি প্রদান, ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটি পুনর্গঠিত এবং চুক্তি লঙ্ঘন করে উদ্বাস্তু তালিকা প্রস্তুত করা, ১৯৯৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি গঠন, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ১২ জুলাই ২০০১ সালের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এছাড়া জনসংহতি সমিতি ও প্রত্যাগত শরণার্থীদের মধ্যে যথাক্রমে ৬৪ ও ১৮৪ জনকে চাকরিতে পুনর্বহাল, জনসংহতি সমিতির ৬৭২ সদস্যকে পুলিশ কনস্টেবল পদে এবং ১১ জনকে ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়। জনসংহতি সমিতির সদস্য ও সমিতির সাথে জড়িত স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৮৪৪টি মামলার মধ্যে ৭২০টি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্বান্ত গৃহীত হয়।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও গত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ও গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি বাস্তবায়নের কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই অঞ্চল থেকে এক ব্রিগেড সৈন্যসহ ৩৫টি অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও চেয়ারম্যান পদে খাগড়াছড়ির এমপি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে নিয়োগের মাধ্যমে প্রত্যাগত পাহাড়ী শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত টাস্কফোর্স পুনর্গঠন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি পুনর্গঠন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে বান্দরবানের এমপি বীর বাহাদুর উ শৈ সিংকে নিয়োগ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। তবে এ অঞ্চলে ভূমি সমস্যা নিয়ে পাহাড়ী ও বাঙালির মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে তা এখনো থামেনি। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ চলছেই। একাধিক সন্ত্রাসী সংগঠন তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এ অঞ্চলে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম

কোন মন্তব্য নেই: