চট্টগ্রাম-দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত ট্রান্স এশিয়ান রেল লাইন সমপ্রসারণের জন্য ইতিমধ্যে সরকার ভুমি অধিগ্রহণ কাজ শুরু করে নোটিস দিয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পূর্ব কাটগড়, উত্তর কালিয়াইশ গ্রামের ২ শতাধিক পরিবার তাদের বাড়ি-ভিটা অধিগ্রহণের নোটিশ পেয়ে শংকিত হয়ে পড়েছেন। একাধিক বার শঙ্খের ভাঙনের কবলে পড়ে এসব এলাকার লোকজন অনেকেই ভিটেবাড়ি, জমিজিরাত হারিয়ে অসহায়
পরিবারগুলো শেষ সম্বল মাথাগুঁজার ঠাঁই খুঁজে নিয়েছিল। সে শেষ সম্বল বাড়ি ভিটা থেকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসকের নোটিশ পেয়ে এসব এলাকার ২ শতাধিক পরিবার উৎকন্ঠায় রয়েছে। এলাকাবাসী বলেন, সরকার থেকে পাওয়া ক্ষতিপূরণের টাকায় নতুন ভিটা কিনে ঘর করে নেয়া সম্ভব হবে না। তাছাড়া, অনেকেই অন্যের জমিতে নিজের টাকা ব্যয়ে সামান্য বাঁশের ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন। আবার অনেকের শুধুমাত্র ঘরভিটা ছাড়া আর কোন জমি নেই বললেই চলে। এলাকাবাসীর মধ্যে আবুল কালাম চাষী, ওমর আলী মাস্টার, মোঃ ইলিয়াছ মাস্টার, গাড়ি চালক আবদুর রাজ্জাক, ব্যবসায়ী জামাল উদ্দীন, ব্যবসায়ী নাছির উদ্দীনসহ অনেকেই বলেছেন, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন হওয়ার জন্য তারাও খুশি। কিন্তু তাদের অধিগ্রহণ জমির ন্যায্যমূল প্রাপ্তি ও ঘরবাড়ির ক্ষতিপূরণ ন্যায্য পাওনা পাওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে পুনর্বাসনের দাবি জানান। আবুল কালাম চাষী বলেন, কাটগড় মৌজার আর এস ৯৮ দাগে ৪৬ একর ৩৬ শতক খাসজমি রয়েছে। যা বর্তমানে কিছু অংশে চাষাবাদ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। অধিগ্রহণে বাড়িঘর হারা পরিবারগুলোকে সে খাসজমিতে বরাদ্দ দিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩ এপ্রিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমারের দ্বার উন্মোচনের জন্য ট্রান্স এশিয়ান রেল লাইনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এ রেললাইন নির্মাণ হলে সারা বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে বিজ্ঞ মহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু গত ১৬ মার্চ ভুমি হুকুম দখল কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশ সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ও পুর্ব কাটগড় এলাকার অসহায় নদী ভাঙার শিকার মানুষের কাছে পৌঁছলে তারা অনেকে হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই বলেছেন, এসব এলাকায় বসবাসকারী অনেকেই নোটিশ পাননি। তাছাড়া, ১৫ দিনের মধ্যে আপত্তি দাখিলের ঘোষণা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে আপত্তি দাখিল করতে ৫শ টাকার অধিক খরচ হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। মৌজাওয়ারী প্রভিশনাল গেজেট কপি, ট্রেসম্যাপ, প্যান সিডিউল ইত্যাদি তথ্যাদি সঠিকভাবে প্রচার করা হয়নি বলে তারা জানান। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা ও বৈরি আচরণের অভিযোগ করেছেন তারা। এসব এলাকার ৯৫ শতাংশ পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে অধিকাংশই দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে থাকে। বর্তমানে কেউ সামান্য জায়গা জমি যোগাড় করে কোন রকমে ঘর নির্মাণ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন অতিবাহিত করছে। রেল সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম-দোহাজারী থেকে সীমান্তবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কি. মি. রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করতে ১ হাজার ৮শ ৫২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে ৬ শ ৭০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার দেবে। অবশিষ্ট ১২শ কোটি টাকা সংস্থান এখনো পর্যন্ত হয়নি বলে জানান। তবে এডিবির অর্থায়নে এ প্রকল্প ডিটেইল ডিজাইন তৈরীর প্রকল্পের ডিটেইল ডিজাইন তৈরির পরামর্শক নিয়োগ তৈরীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা যায়। উলেখ্য যে, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত ১শ ২৮ কি. মি. সিঙ্গেল রেললাইন নির্মাণ করা হবে বলে জানা যায়। বাংলাদেশের এর রেললাইন চীনের কুনমিন পর্যন্ত যাওয়ার কথা রয়েছে। ২০১২ সালের জুন মাসের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে রেললাইন নির্মাণে কাজ শুরু করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৩শ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে-প্রস্তাবিত ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরির নকসা অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশের রেলপথটি দর্শনা-ইশ্বরদী, যমনা সেতু-জয়দেবপুর-টঙ্গী-আখাউড়া-চট্টগ্রাম-দোহাজারী-চকরিয়া-রামু-ঘুমধুম হয়ে মিয়ানমার প্রবেশ করবে। দোহাজারী থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত এর রেললাইনে মোট ৯টি ষ্টেশন নির্মাণ করা হবে। গত বছর ৬ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল একনেকে প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন