সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

দেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প হুমকির মুখে

                                                                        তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার:সূত্র কালের কন্ঠহুমকির মুখে রয়েছে কুতুবদিয়া দ্বীপে স্থাপিত দেশের একমাত্র বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প। ঠিকাদারের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে সময়মতো বেড়িবাঁধ সম্পন্ন না হওয়ায় আসন্ন বর্ষায় সাগরের পানিতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিগত বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পটিতে সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রকল্প রক্ষায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৩ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ২০০৭ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এই বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পটি স্থাপন করে। সাগরের বুকে ভাসমান দ্বীপ কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প স্থাপন করা হয়। সাগরপাড়ের প্রবাহিত বায়ু থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তা কুতুবদিয়া দ্বীপের ৩০ হাজার গ্রাহককে সরবরাহ করার লক্ষ্যে স্থাপন করা হয় প্রকল্পটি। এ প্রকল্পে রয়েছে ৫০ মিটার উঁচু ৫০টি টারবাইন (পিলার)। টারবাইনের পাখার সাহায্যেই বায়ুবিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।
কঙ্বাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামসুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ২০০৮ সালের ৩ মার্চ প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে দেখা গেছে, এখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রায় ১২ হাজার গ্রাহককে সরবরাহ করা সম্ভব। পরে ঘূর্ণিঝড় আইলা ও বিজলির উপর্যুপরি আঘাতে প্রকল্পের ৫০টির মধ্যে ৩৫টি টারবাইন ভেঙে যায়। সাগরে বিলীন হয়ে যায় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ।পরে ভেঙে পড়া টারবাইনের পাখাগুলো মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে বেড়িবাঁধটি পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
কঙ্বাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন জানান, কুতুবদিয়া দ্বীপের বেড়িবাঁধ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। গত বছরের ১ জুলাই মাসে তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে পাউবো বরাদ্দকৃত টাকার টেন্ডারে নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেয়। প্রতি প্যাকেজে ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ১১ মিটার করে দীর্ঘ ৩৩ মিটার বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আসন্ন বর্ষার আগে বিশ্বব্যাংকের দেওয়া টাকায় দ্বীপের বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষাবাঁধ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তিনটি প্যাকেজের মধ্যে কেবল একটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। অপর দুটি প্যাকেজের মধ্যে মাত্র একটির ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প রক্ষা করতে হলে বাকি দুটি প্যাকেজের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এর একটি প্যাকেজের আওতায় বায়ুবিদ্যুতের ৩৭টি টারবাইন রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুন কাজ সমাপ্তির শেষ দিনের আগে একটি প্যাকেজের কাজ শেষ করতে পারলে ৩৭টি টারবাইন রক্ষা পাবে। অপর প্যাকেজের ১৩টি টারবাইন ঝুঁকির মুখে থাকবে। কারণ ওই প্যাকেজের কাজ এখনো শুরু হয়নি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের অগ্রগতি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেই ইতিমধ্যে কার্যাদেশ বাতিলের জন্য কারণ দর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্যাকেজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বগুড়ার মেসার্স আতাউর রহমান খানের নিযুক্ত ঠিকাদার কঙ্বাজার জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, নির্ধারিত সময়ের দুই মাস পর তাঁরা কার্যাদেশ পান। তদুপরি অন্য প্যাকেজের চেয়ে তাঁদের নির্ধারিত প্যাকেজের বাঁধ এলাকার লেভেল নিচু হওয়ার কারণে ভরাটে বেশি সময় লাগছে। তিনি বলেন, কাজের সময় বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির কাছে আবেদন করেছেন। তবে অপর ঠিকাদার চট্টগ্রামের মেসার্স এসএএসআইজেবির স্বত্বাধিকারী সোলতান আহমদের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১২ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির সদস্যরা দ্বীপে এ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। এ সময় পাউবোর রেস্টহাউসে দুপুরের খাবার নিয়ে দ্বীপের ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলায় বিশ্বব্যাংক এবং পাউবোর সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই: