সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

উখিয়ায় স্বাধীনতা পরবর্তী কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি : বাড়ছে বেকার যুবকের সংখ্যা

আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়া:

কক্সবাজারের উখিয়ায় প্রাকৃতিক সম্পদে প্রচুর সম্ভাবনা থাকা স্বত্ত্বেও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোক্তা না থাকার কারণে স্বাধীনতা পরবর্তী ৪০ বছরেও এ উপজেলায় কোন শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। সুষ্টু পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যটন শিল্পের প্রসার, কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা, টেক্সটাইল মিল, যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানা স্থাপন করলে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের তুলনায় লাভের সংখ্যা বহুগুণ বেশি হবে। পাশাপাশি হাজার হাজার বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন উখিয়ার সচেতন মানুষ।


সরেজমিন পরির্দশন করে দেখা গেছে, উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং, রত্নাপালং, হলদিয়া পালং, রাজাপালং, পালংখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকারখানা গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা রয়েছে। কাচা মাল হিসাবে কৃষিজ পণ্য ব্যবহৃত হয় এমন শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এ উপজেলায়। ঋতু ভেদে এ উপজেলার পাহাড়ী অঞ্চল গুলোতে লাখ লাখ টন কাঠাল, আম, পেয়ারা, আনারস, জলপাই, লিচু, বরই সহ বিভিন্ন প্রজাতের মৌসুমী ফল উৎপন্ন হয়। সুষ্ট ভাবে সংরক্ষনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর বাগানেই অনেক ফল নষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে উৎপাদনকারী কৃষকরা উদ্বিগ্ন থাকে। এখানে হিমাগার প্রতিষ্ঠা করে সেগুলো সংরক্ষণের জন্য ফল প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হত। এছাড়া অটো রাইচ মিল, ময়দার মিল, চিড়া মিল, টেক্সটাইল মিল, যন্ত্রাংশ তৈরীর কারখানা, সাবান, জুতা সেন্ডেল, ম্যাচ কারখানা, কাপড় ও বিস্কুট কারখানা খাতে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনা। শুধু উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ার কারণে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সম্ভব হচ্ছে না। সব চেয়ে উল্লেখ্য যোগ্য বিষয় হচ্ছে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এর সমুদ্র চরের বিসর্্তীণ এলাকা উখিয়া উপজেলার মধ্যে পড়েছে। এসব সমুদ্র উপকুলীয় এলাকায় ছোট বড় পর্যটন ষ্পট ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন এলাকা হিসাবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এ খাতকে পর্যটন শিল্পের আওতায় আনলে হাজার-হাজার মানুষের কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে। অন্য দিকে পালংখালী ইউনিয়নের বিসর্্তীণ এলাকায় চিংড়ী চাষ হয়। হিমাগার না থাকায় এখানকার উৎপাদিত লাখ লাখ টাকার চিংড়ী মাছ পচে নষ্ট হয়ে যায়। হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার চিংড়ী মাছ বিদেশে রপ্তানী করা সম্ভব হত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার ৮০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বসবাস করে থাকে। এ জনপদের বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র সীমার নিচের হওয়ায় গ্রাম গঞ্জে বসবাসরত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে অভাব অনটন নিত্য সঙ্গী। এখানকার ৮০ শতাংশ মানুষ জীবন ধারনের তাগিদে কৃষি কাজ, বনাঞ্চল থেকে লাকড়ি, কাঠ, বাঁশ সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করে। দ্রব্য মূল্যের ক্রমবর্ধমান উর্ধ্বগতি, রাজনৈতিক কারণে মাঝে মধ্যে সৃষ্টি অচলাবস্থা এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিকল্প উপার্জন ক্ষেত্র সৃষ্টি না হওয়ায় জন জীবনে চরম অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও ব্যাংক ঋণ সুবিধা দিয়ে এ অঞ্চলের শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এ অঞ্চলের অসংখ্য বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

কোন মন্তব্য নেই: