সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

 কক্সবাজারে বহুতল ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় বিনিয়োগকারীরা

প্রথম আলো‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় কয়েক বছরে তৈরি হয়েছে দুই শতাধিক বহুতল ভবন। আরও অন্তত অর্ধশতাধিক বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে অপরিকল্পিতভাবে। এখন ভবনের ভিড়ে সমুদ্রদর্শন তো দূরের কথা, গর্জনও শোনা যায় না। তা ছাড়া এসব হোটেলে গাড়ি রাখার জায়গা (পার্কিং), ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। যানবাহন ও পথচারীদের হাঁটাচলায় সুপ্রশস্ত রাস্তাও নেই। রাখা হয়নি অগ্নিনির্বাপণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা। কেউ কেউ
সরকারি পাহাড়, সৈকত দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। অবস্থা দেখলে মনে হয়, এসব নিয়ন্ত্রণে এখানে কোনো প্রশাসন নেই।’ পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কক্সবাজারের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে এসব কথা তুলে ধরেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হোটেলমালিক জানান, আবাসন ব্যবসার কিছু প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতামূলকভাবে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের কারণে এখানে জমির দামও শতগুণ বেড়ে গেছে। এখন ভবন নির্মাণের জন্য সৈকত এলাকায় জমি খালি নেই। তাই পাহাড় ও সরকারি খাসজমি দখল চলছে। সৈকত ও আশপাশের এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে পরিবেশ অধিদপ্তর, দমকল বাহিনী, সিভিল এভিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও ৮০ শতাংশ তৈরি ভবনে এসব নেই। সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবে পৃথিবীর দীর্ঘতম ও আকর্ষণীয় সৈকতটিকে ইটপাথরের জঞ্জালে পরিণত করা হয়েছে। ভবনের ভিড়ে ঘিঞ্জি এই সৈকত ভ্রমণে এসে পর্যটকেরা অস্বস্তিবোধ করেন। তাঁরা নির্মল বিনোদনের জন্য শহর ছেড়ে ইনানী, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ছুটছেন।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার জানান, এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া অনেক আকাশছোঁয়া বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে।
আটতলার বেশি ভবন নয়: সূত্র জানায়, পর্যটন শহরে অপরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করতে ৭ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজারে আবাসন ব্যবসার জন্য একটি নতুন নিয়ম ও নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এতে পরিবেশবাদী সংগঠন, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ খুশি হলেও বেকায়দায় পড়েছে অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, এতে তাঁদের হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ সাগরে যাবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিবন্ধন নিতে পৌরসভাকে বাতিল করে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। সদস্য রাখা হয়েছে পৌরসভার মেয়র, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধিকে।
পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) রাজ বিহারী দাশের কাছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কতটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে তার কোনো হিসাব নেই। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কয়েকটি দুই ও তিনতলা ছোট ভবন ছাড়া অন্য কোনো বহুতল ভবনের অনুমোদন তিনি দেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অতীতে সৈকত ও শহর এলাকায় নির্মিত অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউসসহ বহুতল ভবন নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া হয়নি। এখন কড়াকড়ি করায় অনেকে বহুতল ভবন নির্মাণে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন। নীতিমালার আলোকে এসব আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আলম নিজামী জানান, কক্সবাজার শহরে আটতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের নিয়ম থাকলেও অতীতে পৌর কর্তৃপক্ষ তা লঙ্ঘন করে ১২-১৫ তলা পর্যন্ত বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে কাউকে আটতলার বেশি ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি যাঁরা আগে অনুমোদন নিয়েছেন, তাঁদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে।
বেকায়দায় বিনিয়োগকারীরা: ২১ মে একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) নুরুল আলম নিজামী বলেন, আটতলার বেশি ভবন নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও বহু ডেভেলপার কোম্পানিকে ১৫ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ অনেক প্রতিষ্ঠানের নকশা অনুমোদন দিয়েছে পেছনের তারিখ দিয়ে। এখন অবশ্য সেই সুযোগ নেই। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের কমিটির কাছ থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জমির ৩০ শতাংশ সবুজায়নের জন্য খালি রেখে পার্কিং ও বর্জ্য নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরিবেশবান্ধব আটতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হবে।
কক্সবাজারের অন্যতম বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্রীণ ডেল্টা হাউজিং’-এর সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আবু সুফিয়ান জানান, ‘সৈকতের বিভিন্ন স্থানে কাউকে ২২ তলা আবার কাউকে আটতলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়ে পর্যটনশিল্পের বিকাশে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এই সমস্যার অবসান চাই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালকেরা জানান
, নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা ভবনের ওপরের অংশ তুলতে না পারলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ, এরই মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব উঁচু ভবনের ফ্ল্যাট বা ফাইভ স্টার মানের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টগুলো বিক্রি হয়ে গেছে।
সিঙ্গাপুরের আদলে কক্সবাজার: পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটননগর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৬০৩ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। কক্সবাজার পর্যন্ত ১২৬ কিলোমিটার রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। সৈকতের কয়েকটি স্থানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য বিশেষ সংরক্ষিত পর্যটনপল্লি ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

কোন মন্তব্য নেই: