টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বর্ণপদক পেয়েছেন ২ মহিলা আনসার। এরা হলেন সীতাকুন্ডের মিনা আক্তার ও রুবিনা আক্তার। দু’জনই ১নং মহিলা ব্যাটালিয়ানের বি কোম্পানীর আনসার। অভিনব পন্থায় আন-কমন কৌশলে টেকনাফ থেকে ইয়াবা পাচারের সময় দায়িত্বরত উক্ত ২ মহিলা আনসার দেহ তল্লাশী করে উদ্ধার করেছিল এক সাথে ৫ হাজার ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। যার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। প্রশংসনীয় সাহসিকতার এই কাজের কৃতিত্ব ও স্বীকৃতি স্বরুপ তাদেরকে রাষ্ট্রিয় স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়েছে। অতি সম্প্রতি ঢাকায় আড়ম্বরপূর্ণ আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং মিনা আক্তার ও রুবিনা আক্তারকে স্বর্নপদক পরিয়ে দেন এবং নগদ টাকা ও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন। সারা দেশের মধ্যে মাত্র এই ২জন মহিলা আনসার স্বর্ণপদক পেয়েছেন। মহিলা ব্যাটালিয়ান আনসার নিয়োগ দেওয়ার পর সীমান্ত জনপদ টেকনাফে চোরাচালানীরা বিশেষতঃ ইয়াবা পাচারকারীরা তাদের রুট পরিবর্তন করেছে। বিশেষ করে ভদ্রবেশী মহিলা চোরাচালানীরা বেকায়দায় পড়েছে। ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে তাদের সংখ্যা। দমদমিয়া বিজিবি চেকপোষ্ট, টেকনাফ স্থল বন্দর ইমিগ্রেশন ও টেকনাফ চৌধুরীপাড়া ট্রানজিট ঘাট এই ৩টি পয়েন্টে ইমিগ্রিশন পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই জন করে দুই শিফটে এসব মহিলা আনসার দায়িত্ব পালন করে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়- গতবছর ১৪ জুলাই থেকে টেকনাফের ৩টি পয়েন্টে এসব মহিলা আনসার দায়িত্ব পালন শুরু করে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাহিদা ও প্রয়োজনের প্রেক্ষাপটে গতবছর জুলাই মাসের প্রথমার্ধে ১ ও ২নং মহিলা ব্যাটালিয়ান থেকে ১৫ জন মহিলা আনসারকে টেকনাফে পোষ্টিং দিয়েছিল। বর্তমানে কর্মরত আছেন পটিয়ার তছলিমা আক্তার, মেহেরজান, সন্ধীপের নাছিমা আক্তার, হাটহাজারীর জেসমিন আক্তার, মেঘনা সুৎসুদ্দী, সীতাকুন্ডের বিবি মরিয়ম, মিনা আক্তার, রুবী আক্তার, বাঁশখালীর তুহিন ফেরদাউছ, মিনু আক্তার, বোয়ালখালীর শ্রীমতি রিনা দত্ত, খাগড়াছড়ির মিসেন্দা মার্মা, পতেঙ্গার বিলকিস আক্তার, রামুর কহিনুর আক্তার, লোহাগাড়ার খুরশিদা আক্তার। এরা বসবাস করে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ এলাকায় অবস্থিত উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার কার্যালয়ের দোতলায়। সেখানে থেকেই তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন। শুরু থেকেই এসব মহিলা আনসার ৩টি পয়েন্টে চোরাই পন্য বিশেষতঃ বিশেষ কৌশলে ও বিশেষ স্থানে লুকিয়ে রাখা ইয়াবা ইদ্ধার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। তম্মধ্যে ৫ হাজার ৩ পিছ ইয়াবা উদ্ধার অন্যতম। যার পুরষ্কার ইতিমধ্যেই তারা লাভ করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে। এছাড়া গত ২৩ জানুয়ারী টেকনাফের চৌধুরীপাড়া বাংলাদেশ- মায়ানমার ট্রানজিট ঘাটে দায়িত্ব পালন কালে বাঁশখালীর মিনু আক্তার ও সন্ধীপের নাছিমা আক্তার অত্যন্ত সাহসিকতায় মায়ানমারের এক রাখাইন মহিলা থেকে ৯০ ভরি স্বর্ন উদ্ধার করে শুধু টেকনাফ সীমান্তে নয়, সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। টেকনাফ থেকে কৌশলে মায়ানমারে পাচার করার সময় উক্ত দুই মহিলা আনসারের সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনও তারা পুরষ্কার পায়নি, প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় তারা জানান দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য কিছু করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বিশেষতঃ প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পাওয়ার মূহুর্তের আনন্দ বর্ণনাতীত। তবে দায়িত্ব পালনে যাতায়তে নিজস্ব যানবাহন না থাকায় সময় ও আর্থিক সমস্যা হচ্ছে বলে তারা জানান। উল্লেখ্য , টেকনাফ উপজেলা আনসার ভিডিপি অফিসার বশির আহমদ ও মহিলা কমান্ডার হ্লামিয়াছা এদের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন