সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

রামুতে স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়, আটক-১



সোয়েব সাঈদ:
রামু উপজেলায় স্বামী ও শ্বাশুড়বাড়ির লোকজনের নির্মম প্রহারে গৃহবধূ রাশেদা আকতারের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘন্টা পার হলেও নির্যাতনকারী পাষন্ড স্বামীকে গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রামু থানার ওসি একে নজিবুল ইসলাম,  শনিবার এ প্রতিবেদককে জানান, প্রধান আসামীকে ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহষ্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘন্টাা মধ্যযুগীয় কায়দায় শারিরীক নির্যাতনে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। নিহত গৃহবধূ রাশেদা আকতার (২৬) রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নন্দাখালী বড়পাড়ার মোহাম্মদ আজিজ প্রকাশ আয়াছ (২৭) এর স্ত্রী। গত বৃহষ্পতিবার (১৪ জুলাই) রাত ১০ টার দিকে রাশেদা আকতার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মারা যান। এঘটনায় তানিয়া সুলতানা (২২) নামের এক মহিলাকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি ঘাতক স্বামী মোহাম্মদ আজিজ প্রকাশ আয়াছ এর ভাইয়ের স্ত্রী। প্রায় দেড় বছর পূর্বে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ কলাতলী এলাকার মোহাম্মদ হোছেনের মেয়ে রাশেদা ও মোহাম্মদ আজিজ প্রকাশ আয়াছ পরস্পরকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। বর্তমানে তাদের সংসারে একটি সাত মাসের ফুটফুটে পুত্র সন্তানও রয়েছে।
নিহত রাশেদা আকতারের বড় ভাই নজির হোসেন জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও শ্বাশুড় বাড়ির লোকজন রাশেদাকে কারনে-অকারনে শারীরিক নির্যাতন চালাতো। সম্প্রতি স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বাশুড় বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দাবী করেন। টাকা নেয়ার জন্য স্ত্রী রাশেদাকে সপ্তাহখানেক আগে পাঠানো হয় কক্সবাজারস্থ বাপের বাড়িতে। সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে রাশেদা বেগম গত ১৩ জুলাই স্বামীর ঘরে ফিরে আসেন। ফেরার সময় রাশেদার মা জহুরা বেগম ৭ মাস বয়সী নাতির জন্য শিশুখাবার (দুধ) ক্রয়ের জন্য তিনশত টাকাও দেন। সেই টাকা দিয়ে রাশেদা সন্তানের জন্য খেলনা সামগ্রী কিনেন। বাড়িতে ফিরে মাত্র পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ায় ক্ষেপে যান রাশেদার স্বামী। পরদিন বৃহষ্পতিবার (১৪ জুলাই) সকালে সন্তানের জন্য নানীর দেয়া টাকায় খেলনা কিনে নেয়ার কথা শুনে রাশেদা কে বেদম মারধর শুরু করেন স্বামী মোহাম্মদ আজিজ প্রকাশ আয়াছ। সকাল থেকে মারধর শুরু করে চলে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত। রাত আটটার দিকে রাশেদা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এসময় ওই বাড়ির লোকজন রাশেদার মাথা ও শরীরে পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করে। জ্ঞান না ফেরায় রাত ৯ টায় রাশেদা কে রামু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদার অবস্থা আশংকাজনক দেখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রাত দশটায় রাশেদাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাশেদাকে মৃত ঘোষনা করেন। এরই মধ্যে মৃত্যু সংবাদ শুনে রাশেদার আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালে রওয়ানা দেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখেন, স্ট্রোক করার তথ্য দিয়ে শ্বাশুড়বাড়ির লোকজন হাসপাতাল থেকে রাশেদার মৃত দেহ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাশেদার মৃত দেহ নিয়ে শুরু হয় নতুন কাহিনী। রাশেদা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এমন নাটক সাজাতে উঠে পড়ে লাগে শ্বাশুড় বাড়ির লোকজন। জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান এমএম নুরুচ্ছাফা ও মহিলা ইউপি সদস্য কহিনুর আকতার জানান, তার রাত সাড়ে টায় ওই বাড়িতে গিয়ে রাশেদার থাকার কক্ষে প্রচুর পানি দেখতে পান (যা রাশেদার জ্ঞান ফেরাতে ঢালা হয়েছিল)। আধঘন্টা পর তারা আবার ওই কক্ষ দেখার জন্য গেলে সেখানে একটি কাপড় ঝুলানো অবস্থায় দেখতে পান। তাদের ধারনা রাশেদা আত্মহত্যা করেছে এমন নাটক ও প্রচারনা চালানোর উদ্দেশ্যে ওই কাপড় ঝুলানো হয়েছে। এমনকি রাশেদার গলায়ও আত্মহত্যার চিহ্ন হিসেবে আঘাত করা হয়েছে। রাতে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাশেদার মৃতদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। স্থানীয় নব-নির্বাচিত ইউপি সদস্য বশির আহমদ জানান, এলাকাবাসীর কাছ থেকে রাশেদার উপর নির্যাতনের কথা শুনেছি এবং রাশেদার শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, বৃহষ্পতিবার মারধর করার সময় সহ্য করতে না পেরে রাশেদা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে লুকিয়ে ছিলে। কিছুক্ষন পর সেখান থেকে শ্বাশুড়বাড়ির লোকজন তাকে ধরে নিয়ে আবারও নির্যাতন শুরু করে। লোমহর্ষক এ নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকায় লোকজনের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। ক্ষুব্দ লোকজন এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছে। 
এঘটনায় নিহত রাশেদার পিতা মোঃ হোছেন বাদী হয়ে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার ১৫ জুলাই সকালে রামু থানায় মামলা (নং-১৩) করেছেন। রাশেদার স্বামী মোহাম্মদ আজিজ প্রকাশ আয়াছ এবং আটক তানিয়া সুলতানাকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে। রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একে নজিবুল ইসলাম বলেন, রাশেদার হাতে-পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ব্যাপক নির্যাতনের ফলে রাশেদার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। রাশেদার আকতারের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য গতকাল শুক্রবার মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ছবির ক্যাপশন-রামুতে স্বামীর নির্যাতনে নিহত গৃহবধূ রাশেদা আকতার।

কোন মন্তব্য নেই: