সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

পার্বত্য চট্টগ্রামের চার উপজেলায় মৎস্য অফিস নেই

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান থেকে
অসংখ্য নদী, খাল, ছড়া থাকা স্বত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রারে চারটি উপজেলায় মৎস্য বিভাগের অফিস বা লোকবল নেই। শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে বান্দরবান জেলার রুমা ও থানচি এবং রাঙামাটি জেলার বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলায়ও মৎস্য বিভাগের কোনো অফিস নেই, কোনো কার্যক্রমও সেখানে নেই।
দেশের ৪৬৪ উপজেলার মধ্যে ৪৬০ উপজেলায় মৎস্য অফিস ও কার্যক্রম থাকলেও উল্লেখিত ৪টি উপজেলায় মৎস্য বিভাগের কোনো কাযক্রম
বা অফিস না থাকায় সম্ভাবনাময় মৎস্য খাতের উন্নয়ন যেমন হচ্ছে না, তেমনি আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও লোকজন মৎস্য চাষ করার সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেনা।।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৮৩ সালে এনাম কমিটি’ গঠন করা হয়। ঐ কমিটির ১২/১২/১৯৮৩ তারিখের সুপারিশের প্রেক্ষিতে বান্দরবানের রুমা ও থানচি এবং রাঙ্গামাটির বরকল ও বিলাইছড়ি উপজেলাকে বাদ দেয়ায় এসব উপজেলায়/থানায় অফিস ও লোকবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।
বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলায় মৎস্য চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তর থেকে যে ২টি নদী উৎপত্তি হয়েছে তার প্রধান সাঙ্গু নদী থানচি উপজেলার পাহাড় থেকে উৎপন্ন। এখানে অসংখ্য পাহাড়ি ঝিড়ি, খাল, ছড়া ও পুকুর রয়েছে। এসব স্থানেও মৎস্য চাষ হচ্ছে। কিন্তু মৎস্য বিভাগের অফিস ও লোকবল না থাকায় সেখানকার মৎস্য চাষীদের কোনো সহায়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। থানচি উপজেলায় মাছের অভয়ারণ্য (মৎস্য আবাসস'ল পুণরুদ্ধার) গড়ে তোলার জন্য জেলা মৎস্য অফিস ২০০৪ সালে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে থানচি উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায় সাঙ্গু নদীতে ১,২০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮০০ ফুট প্রস্ত (দেড় হেক্টর) এলাকা নিয়ে মৎস্য অভয়ারণ্য (আবাসস'ল পুনরুদ্ধার) গড়ে তোলে। সেখানে মৎস্য বিভাগের লোকবল না থাকায় প্রকল্পটি সফল হচ্ছে না। রুমা উপজেলাতেও মৎস চাষ হলেও সেখানেও মৎস্য বিভাগের অফিস ও লোকবল না থাকায় মৎস্য চাষীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, থানচি ও রুমা উপজেলায় মৎস্য বিভাগের অফিস ও লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ হতে স' সঃপঃ/বা-বান-১-৭৮/৯৮-৫৬২/১(৮) তাং- ৩০/০৬/৯৮ মূলে ১টি এবং পাজেপ/বা-বান/প্রশাঃ/২০০৪-১৩১৮/১ (২) তাং-১৯/১২/০৪ মূলে ১টিসহ মোট ২টি পত্র মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। পত্রের প্রেক্ষিতে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সিনিয়র সহকারী সচিব মোঃ আনিছুর রহমান স্বাক্ষরিত স্মারক নং- মপম/ম-১/বিবিধ-১/০৩/৫৫৩, তাং-৬/৮/০৫ মূলে একটি পত্র সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট প্রেরণ করা হলেও এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রসঙ্গত, পার্বত্য জেলা পরিষদ বিধি মোতাবেক সরকারের যেসব বিভাগ পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যাস্ত, মৎস্য বিভাগ তার একটি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য চাষীরা জানিয়েছেন, রুমা ও থানচি উপজেলায় মৎস্য চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মৎস্য চাষের জন্য যে প্রশিক্ষণ, সরাকরি সহযোগিতা প্রয়োজন, মৎস্য অফিস ও লোকবল না থাকায় তারা সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। 

কোন মন্তব্য নেই: