সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

এমপি আর ঠিকাদার দ্বন্ধে ছোট হচ্ছে শাহ্পরীর দ্বীপ : ৩০ হাজার মানুষের দূর্ভোগ



ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার:
ভাঙ্গন ও প্রবল বর্ষণে ক্রমেই ছোট হয়ে আসা টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের ৩০ হাজার মানুষের করুণ পরিণতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে সেখানকার অধিবাসীদের অনেকেই অন্যস্থানে বসতির পরিকল্পনা নিচ্ছে। কেউ কেউ নিজেদের বাপ দাদার শেষ স্মৃতি বসতবাড়ি হারানোর ভয়ে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি তিক্ত হয়ে উঠেছে। এলাকার অসংখ্য পানিবন্দি মানুষ বলাবলি করছেন, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে স্থানীয় ছেলেকে এমপি বানিয়ে লাভতো দূরের কথা উল্টো ক্ষতি করে দিয়েছে।
তার কারণেই ঠিকাদার বেড়িবাঁধটি নির্মাণ না করে কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের এই অবস্থা।
শুনেছি, ঠিকাদার এখন এই এলাকার সমস্যা সমাধান না করে নিজের সমস্যা প্রতিরোধে এমপি বদির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদ, জাতীয় সংসদের স্পীকার, জেলা প্রশাসন, ডিজিএফআই সহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেখানে ঠিকাদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমাদের এমপি সাহেব চাঁদা দাবি করায় তিনি কাজ করতে পারছেননা। শুধু চাঁদা দাবি নয়, এমপি সাহেব পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮ নং ফোল্ডারের এই কাজটি বাস্তবায়নে কর্মরত শ্রমিকদের অত্যাচার করে তাড়িয়ে দিয়েছে। এতে করে একদিকে এমপি অন্যদিকে ঠিকাদারের উক্ত গন্ডগোলকে কেন্দ্র করে ভূক্তভোগী হাজারো মানুষের প্রাণের দাবিটি বাস্তবায়ন না হওযায় কপাল পুড়ছে এলাকাবাসীর। একই সাথে শত শত একর ফসলি জমি ও বসবাসরতদের বাড়ি ঘর দিন দিন তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তারা চরম মানবেতর জীবন যাপন করছেন। শুষ্ক মৌসুমেও এলাকাবাসী আকাশ দেখলেই চমকে উঠে। উন্নয়নে বাঁধা দানকারী ও অযোগ্যদের জন্য অভিশাপ দিতে থাকেন। তারা বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের উপর খোদার গজব কেন পড়ে না?
জানাগেছে, গত ৪ বছর যাবৎ শাহপরীরদ্বীপ ও জালিয়া পাড়ায় দিন দিন সাগর তলে হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় শাহপরীরদ্বীপে বদর মোকাম ছিল মিয়ানমারের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের একটি মিনি নৌবন্দর। বর্তমানে সে বদর মোকাম সাগরকে গ্রাস করে নিয়ে গেছে। বদর মোকাম ও সেন্টমার্টিণদ্বীপের মোহনায় প্রবেশ করার পথে এবং উত্তরে শাহপরীরদ্বীপ পর্যন্ত বিশাল জায়গা নাফ নদীও সাগরের গর্ভে বিলিন হয়ে তরঙ্গের সাথে খেলছে। ফলে বর্তমানে উক্ত বাণিজ্যিক স্থান বদর মোকাম এলাকাটি সম্পূর্ণ ভরাট অবস্থায় রয়েছে। সামুদ্রিক জোয়ারের সময় ভারি যান বাহন এ পথে যাওয়া যায় না এবং গেলে চোরা বালিতে আটকা পড়ে যায়। শীতকালীন মৌসুমে সাগর এবং নাফনদীর মোহনার মুখে বদর মোকাম এলাকাটি ভেসে উঠে। এদৃশ্যটি দেখার জন্য পর্যটকরা আকৃষ্ট হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল এবং ১৯৯৪ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে শাহপরীরদ্বীপের রক্ষাকারী বেড়ীবাঁধ বিলিন হয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন সরকারের আমলে বিশ্ব ব্যাংকের অথ্যায়নে ১৭ কিলোমিটার বিধ্বংস্থ বেড়িবাঁধ পূর্ন নির্মানের জন্য ৩০ কোটি টাকা এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর অধীনে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন গমের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে শাহপরীরদ্বীপকে সাগরের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করে। এভাবে সাগরে বিলিন হয়ে যাওয়া বদর মোকামকে তৎকালীন সরকার রক্ষা কাজে এগিয়ে আসত তাহলে বদর মোকাম আজ তার সাগর বক্ষে বিলিন হয়ে যেত না। তৎকালীন সময়ে স্থানীয় সচেতন মানুষ এবং রাজনৈতিক ভাবে স্থানীয় নেতৃত্বের যোগ্যতার অভাবে বদর মোকাব এলাকাটি সাগর থেকে রক্ষা ব্যাপারে চিন্তা করেনি। বর্তমানে তার খেসারত দিচ্ছে শাহপরীরদ্বীপবাসী। অনুরুপভাবে শাহপরীরদ্বীপে ৪টি পাড়া যথাক্রমে পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, দক্ষিণপাড়া ও উত্তরপাড়ার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এবং চাষাবাদের জায়গা জমি সাগরের ভাংগনের মুখের মধ্যে রয়েছে। এখন দ্বীপবাসীর প্রশ্ন শাহপরীরদ্বীপের অসমাপ্ত ভগ্ন বেড়িবাধের নির্মাণ কাজ কখন শুরু হবে? আজও দ্বীপবাসী সেই খবর জানে না। এমনকি সাগরের জলোচ্ছ্বাসে সরকারের ত্রান সাহায্য এখনো পৌছেনি। ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা অর্ধাহারে অনাহারে ভোগছে।

কোন মন্তব্য নেই: