মুহাম্মদ তাহের নঈম,টেকনাফ:
তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রাখা ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবীতে বিএনপি-জামায়াত আহুত হরতাল চলাকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং এ আওয়ামীলীগ বিএনপি ও পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামীলীগের কর্মী-সমর্থকরা বিএনপি'র নেতা হাজ্বী ফেরদাউস আহমদ কে বিনা উস্কানিতে ধরে নিয়ে মারধর করলে এঘটনার সুত্রপাত হয়। খবর টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দু'দলের সমর্থক ও পুলিশেরমধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষে এলাকা রনক্ষেত্রে পরিণত হয়।এতে বিএনপি নেতা হাজ্বী ফেরদাউস সহ কমপক্ষে ৩৫জন আহত হয়েছে ।পুলিশ নিরীহ জনতার উপর লাঠিচার্জ করায় বিক্ষুদ্ধ জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গতকাল ৫ জুন বিকেলে টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ষ্টেশনের প্রধান সড়কে স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী ফেরদৌস আহমদের নেতৃত্বে কয়েকজন বিএনপি কর্মী পিকেটিং শুরু করে।।টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জাফর আলম চোধুরীর পুত্র মোঃ আলমগীর এতে বাধা দেয়।তখন বিএনপি নেতা হাজ্বী ফেরদাউস ও আওয়ামীলীগ নেতার পুত্রের সাথে হরতাল নিয়ে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। বিষয় টি অনেকটা মিমাংসার পর্যায়ে গেলেও এক পর্যায়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী বিএনপি নেতা হাজ্বী ফেরদাউস আহমদ কে কলারধরে টেনে হেচড়ে অফিসে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ফেরদৌসকে নাজেহাল করার খবরে বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং তাৎক্ষণিক স্থানীয় বিএনপি নেতা কর্মী ও বিক্ষুদ্ধ জনতা হোয়াইক্যং ষ্টেশনস্থ আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে এসে হাজ্বী ফেরদাউস আহমদ কে উদ্বার করে নিয়ে যায় । এ সময় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অবস্থানরত উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা হারুন-অর-রশিদ সিকদার, নজির আহমদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা এদিক ওদিক পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের ধাওয়া করে কোণার পাড়া এলাকায় গেলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মহিলা আত্মীয় স্বজনরা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে এএসপি(উখিয়া সার্কেল) ছত্রধর ত্রিপুরা, টেকনাফ থানার ওসি মাহবুবুল আলম কোণার পাড়া এলাকায় গিয়ে কৌশলে অবরুদ্ধ পুলিশের গাড়ীটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় মহিলারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে পুলিশ জানান। পুলিশ এ সময় ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ আহত হয়। এক পর্যায়ে এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে এবং ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ২২ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাবলীগের আমীর সহ পুলিশ দু'জনকে আটক করে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি কর্মী আক্তার কামাল (২৮), মুজিব (২৫), মোসত্মফা (২২), নুরম্নল ইসলাম (২৯) মোস্তফা কামাল(২০)শমসুদ্দিন(২২) শাহাব উদ্দিন (২৭) আহত হয়। এ ছাড়া পুলিশের লাঠিচার্জে শবে মেরাজ (৪৫), রাবেয়া (৩২), আমেনা বেগম (২৫) আরেকজাহান (৪৫)খালেদা বেগম (২৭) আহত হয়।আওয়ামীলীগের সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী জানান তারা ষ্টেশনে পরিকল্পিত ভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।এঘটনায় আওয়ামীলীগ কর্মী আহমদ কবীর (২৯), মোঃ আলম (১৮), মোঃ সেলিম (২৭), আবু হুরাইরা (২২), আবু তাহের (৩২), বাদশাহ মিয়া (৫৫), মুফিজ (৩৮), মোবারক (২৫)আহত হয়।এ ঘটনায় আওয়ামীলীগ-বিএনপি পরস্পরকে অভিযোগ করছে। বিএনপি'র উপজেলা সভাপতি সরওয়ার কামাল চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজী ফেরদৌসকে ব্যাপক মারধর করে আওয়ামীলীগ আটকে রাখে এবং সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ভাবে সাজানো ঘটনা ঘটায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা।তিনি জানান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর ও পাশ্ববর্তী আওয়ামীলীগ কর্মী বাদশাহ মিয়ার কুলিং কর্ণারে ভাংচুর ও লুটপাট এর ঘটনা ও সাজানো নাটক।এদিকে হরতালের পূর্বদিন গভীর রাতে হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজ্বী জালাল আহমদকে বিনা অজুহাতে উপরের নির্দেশে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী,টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার কামাল চৌধুরী,সাধারন সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ এলএলবি এঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ক্যাপশনঃ পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ চালালে শত শত নারী পুরুষ পুলিশ কে অবরুদ্ধ করে রাখে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন