সর্বশেষ সংবাদ

আপনার প্রিয় উখিয়া নিউজ শীঘ্রই নতুন নামে আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছে...UNC............ www.ukhianews.com

তৃষ্ণা মেটাবে কক্সবাজারের কফি


rtnnঅবসর সময় কাটাতে, শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে চা কিংবা কফিতে চুমুক দিতে কে না চায়?কফি হাউজ, আধুনিক ভালো মানের রেস্তোরা বা অভিজাত পরিবারের আড্ডা ও অতিথি আপ্যায়নে বহুদিন ধরে চলে আসছে কফি’র ব্যবহার।


আর এই চাহিদা মিটাতে বিদেশ থেকেই আমদানি করা হয় বিশ্বমানের প্যাকেটজাত কফি।

একবার ভাবুন তো, এই কফি যদি দেশেই উৎপাদন করা যায়! শুধু তাই নয়, দেশের চাহিদা মিটিয়ে যদি বিদেশেও রপ্তানি করা যায়!

সম্প্রতি কক্সবাজারে কফি চাষ শুরু হয়েছে। উৎপাদিত এই কফির স্বাদ বিশ্বমানের বলে জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্টরা।

আর এই স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলেছে জাহানারা এগ্রো ফার্ম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগী ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে কফি চাষে অসাধারণ এক বিপ্লব ঘটবে কক্সবাজারে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক জাহানারা ইসলাম বলেন, তিনি ৫ বছর আগে ভারতের দার্জিলিং থেকে এ্যারাবিয়ান জাতের দু’টি কফির চারা কিনে আনেন। পরীক্ষামূলকভাবে একটি চারা লাগান তার বাড়ির আঙ্গিনায়। আরেকটি টবের মধ্যে রেখে পরিচর্যা করেন। চারার অগ্রগতি দেখে সাধারণ প্রক্রিয়ায় ওই দু’টি চারা থেকে চারা উৎপাদন শুরু করেন। এখন তার প্রতিষ্ঠানে অন্ত পাঁচ হাজার কফি’র চারা রয়েছে।  

তিনি জানান, শহরের লিংক রোড ও উখিয়ার পালংখালী এলাকায় ইতোমধ্যে কফির চাষ শুরু করেছেন। এরইমধ্যে গাছ থেকে কফি উৎপাদনও শুরু হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া ও উর্বর মাটি হওয়ায় কক্সবাজারে চায়ের চেয়ে কফির ফলন বেশি হয়। জাহানারা তার সংসারের কফির চাহিদা মিটাচ্ছেন নিজের চাষ করা কফি দিয়ে।

যেভাবে চাষ হয়

কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুলের গাছের মত। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৬শ’ ফিট উপরে যে কোন মাটিতে কফি’র চাষ হয়। তবে পাহাড়ী, উপত্যকা ও ঝর্ণার পার্শ্ববর্তী জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী। এছাড়া রাবার বাগানের ফাঁকে ফাঁকে লাগানো যাবে কফির চারা। বাড়ির আঙ্গিনা, ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদেও কফি’র চাষ সম্ভব।



রোপনের দু’বছর পর থেকে কফির বিন (ফল) তোলা যাবে। কফির বিন গুলো দেখতে অনেক গমের মতো। তবে আকারে একটু বড়। কক্সবাজারের পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বছরের দু’বার করে বিন তোলা সম্ভব। একটি কফি’র গাছ থেকে ২০/৩০ বছর ধরে কফি’র বিন পাওয়া যাবে।



একটি গাছের জন্য খরচ হবে এক থেকে দেড়শ’ টাকা। একটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজি বা তারও বেশি কফি’র বিন পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কফি’র কেজি প্রায় চার হাজার টাকা।

 

জাহানারা ইসলাম আরো বলেন, রাবারের চাষ করে কয়েক বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু রাবার গাছের ফাঁকে কফি’র চারা লাগিয়ে দু’বছরের মাথায় প্রচুর টাকা আয় করা সম্ভব।



তিনি মনে করেন, এখানকার উৎপাদিত কফি কক্সবাজারের তারকা হোটেলে ব্যবহারের সুযোগ আছে। হোটেলের চারিদিকে কফি’র গাছ লাগিয়ে ওই হোটেলের কফি’র চাহিদা মিটানো সম্ভব। পাশাপাশি সবুজের সমারোহ ওই কফি গাছ পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে আনন্দ দেবে। 

কফি গাছ থেকে মধু ও শ্যাম্পু

কফি’র বাগান থেকে মধু আহরণ করা যায়। কফি গাছের মধ্যে কাঠের তৈরি ছোট বাক্স বসালে বিনের কলি থেকে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা চাক বানাবে।



পাশাপাশি ওই গাছ থেকে প্রক্রিয়াজাত করে চুলের যত্নে উন্নতমানের ‘শ্যাম্পু’ তৈরি করা যায়।

যেভাকে কফির বিনকে পানযোগ্য করা হয়

কফি’র বিন গুলো শুকিয়ে কোন মাধ্যম দিয়ে গুড়া করে তাৎক্ষনিকভাবেই কফি তৈরি করা যায়। আর এ কফির স্বাদ হবে বাজারের কফি’র চেয়ে আলাদা।

কোন মন্তব্য নেই: