| বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার :
কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ছিনতাইয়ের গুজব উঠেছে। গুজবে শোনা যাচ্ছে কক্সবাজারে স্থাপনের কথা থাকা আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম শ্রীঘ্রই সিলেটে স্থানানত্মরিত করা হচ্ছে। গুজবের কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের টানাটানির মধ্যে তা হতেও পারে। তিনি বলেন ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি দরিয়া নগরের স্থানটি পরিদর্শনের জন্য আসার কথা থাকলেও আসেননি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান দরিয়ানগরই একমাত্র উপযোগী স্থান বলে মত দিয়েছেন দেশের বিখ্যাত ক্রীড়াবিদ ও উপস্থাপক ড. অনুপম হোসেন। তিনি বলেন সিলেটে নেই কোন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল কিংবা সেখানে এখনো সেরকম কোন অবকাঠামো গড়ে উঠেনি। সবদিক বিবেচনা করে একদিকে পাহাড় আর অন্যদিকে সাগরের বিশালতার মধ্যে দিয়ে দরিয়া নগরেই আনত্মর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি। বারবার প্রতিশ্রম্নতির জালে আটকা পড়ার পর অবশেষে কক্সবাজার জেলা থেকে ছিনতাই(!) হতে যাওয়া আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিষয়ে দল-মত নির্বিশেষে সকলে যদি সোচ্চার না হয় কিংবা আন্দোলনের কর্মসূচি না দেয় তাহলে যেকোন মুহুর্তে এ গুজবই সত্যিতে পরিণত হবে এবং জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।
জানা যায়, জেলা বাসী দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাদদেশে আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ এর প্রতিশ্রম্নতির বাণী শুনে আসছে। তাছাড়া চলতি বছরের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার সফরকালীন সময়ে জেলাবাসী আশায় বুক বেঁধেছিল প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখে হয়তো কক্সবাজারে আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কথা শুনিয়ে জেলাবাসীর আশাকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু সেটাও জুটেনি জেলাবাসীর কপালে। ফলে সেসময় থেকেই হতাশার কালো মেঘ দেখা দিয়েছিল জেলাবাসীর মুখে। এরপর থেকে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে জেলাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছিল নানা সংশয়। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, কক্সবাজারের পর্যটন স্পট দরিয়ানগরে আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ে উঠলে পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ হবে। কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হলে তা শুধু কক্সবাজারবাসীর জন্য নয় পুরো দেশবাসির জন্য আশির্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ কক্সবাজারই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত নগরী। তাই এখানে একটি অত্যাধুনিক বিশ্ব মানের আনত্মর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নিমর্াণ করা হলে তা জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের পর্যটন শিল্পকে পর্যটকদের আরো বেশী করে আর্কষনীয় করে তুলবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
পর্যটন শিল্পের সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের স্বপ্ন পর্যটন রাজধানী খ্যাত কক্সবাজারেই বিশ্বমানের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। নানা কারণে ইতোমধ্যে কক্সবাজার বিশ্ববাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ক্রিকেট, ফুটবল থেকে শুরম্ন করে বিশ্বমানের বেশ কয়েকটি আসর কক্সবাজারে সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। তাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উপযুক্ত স্থান পর্যটন নগরী কক্সবাজারই প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে জনমত জরিপের এক পরিসংখ্যানে এই আশা আকাংখার প্রতিফলন ঘটেছে। আর তা হলে আগামী ২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট কক্সবাজারে সমুদ্রের পাদদেশে অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে কক্সবাজারবাসী আবারও প্রমাণ করতে পারবে কক্সবাজারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য একটি উপযোগী ও যোগ্যতম স্থান। ভূমি ও প্রশাসনিক জটিলতা থেকে শুরম্ন করে নানা কারনে কয়েকবার স্থান নির্ধারণ করার পরও কক্সবাজার থেকে আনর্ত্মজাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম সিলেটে চলে যাচ্ছে বলে বেশ কয়েকদিন ধরে কক্সবাজারে গুজব উঠেছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক জসিম উদ্দিন জানান, কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রতিশ্রম্নতি সরকার অনেক আগে থেকেই দিয়ে আসছে। বর্তমান সময়ে এসে জায়গা নির্ধারনের পর অন্যত্র চলে যাওয়ার গুজব আমরাও শুনেছি। তবে তা যদি সত্যি হয় তাহলে কক্সবাজারের সাধারন ক্রীড়ামোদী থেকে শুরম্ন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি দেব।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ১০ বছর আগে অথ্যর্াৎ ২০০১ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওবাইদুল কাদের ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক ও অত্যাধুনিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের নির্মিত্তে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উপকণ্ঠ অথ্যর্াৎ সমুদ্র সৈকতের ডায়বেটিক পয়েন্টেস্থ (বর্তমান বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশের) জায়গাটি পছন্দ করেন। পরে তাঁদের কথামতে কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থা কতর্পক্ষ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৫১ একর জায়গার একটি ট্রেসম্যাপ ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সরকার পরিবর্তন হলে কক্সবাজারে আনর্ত্মজাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে চাপা পড়ে থাকে। অনেক চেষ্টা করার পরও কোন ভাবে বিগত ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ফাইলটি আলোর মুখ দেখেনি। পরবতর্ীতে ২০০৮ সালে আওয়ামলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার আবার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে জানানো হয়, সরকার কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিকমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম করবে এবং এ ব্যাপারে সরকার বদ্ধ পরিকর। এজন্য জায়গা পছন্দ করার জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিবকে আহবায়ক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। এদেিক গত বছর ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার কক্সবাজার সফরে এলে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জন্য ৪টি সম্ভাব্য জায়গা দেখানো হয়। এগুলো হলো বিয়াম স্কুলের পাশের জায়গা, গলফ মাঠ, দরিয়ানগর। পরবতর্ীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজ্জাদুল হাসান ববিও কক্সবাজার আসলে জায়গাগুলো পরিদর্শন করেন এবং দরিয়ানগরকেই ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের উপযোগী স্থান বলে মত দেন। |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন