বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান থেকে
বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪টি মৌজায় সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র জন্য সাড়ে নয় হাজারের বেশি একর জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে স্থানীয় আদিবাসীরা মঙ্গলবার রুমা হতে বান্দরবান সদর পর্যন্ত লংমার্চ করে। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পরে বিকেল ৫টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে এক সমাবেশে স্মারক লিপি পাঠ ও ভুমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে আদিবাসীদের উচ্ছেদের প্রক্রিয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান হয়।
রুমা উপজেলা ভূমি অধিকার সংরক্ষণ কমিটি ও রুমার জনসাধারণের ব্যানারে এই লংমার্চ, স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ভুমি অধিকার সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দ বিকেল পৌণে ৫টায় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে লিখিত স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রুমা উপজেলায় সেনাবাহিনীর গ্যারিসন সম্প্রসারণের জন্য ৩৬৬নং সেংগুম, ৩৬৫ পান্তলা ও ৩৬৪নং গ্যালেঙ্গা মৌজায় আদিবাসীদের ভোগ দখলীয় ৯হাজার ৫৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এছাড়া বিজিবি’র ক্যাম্প স'াপনের জন্য ৩৫৬ নং পলি মৌজার ২৫ একর জমিও অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব জমি অধিগ্রহণ করা হলে এসব এলাকার কয়েক হাজার আদিবাসী বসতি ও চাষাবাদের জমি হারিয়ে উচ্ছেদ হয়ে বাস'হারা হয়ে পড়বে। স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি বর্তমানে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিগত আমলে করা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম। সেই আওয়ামী লীগ এবার সরকার গঠন করে শান্তিচুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করবে। কিন' শান্তিচুক্তির এখনও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।
স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে, রুমা উপজেলায় বিশাল ভুমি রয়েছে বলে প্রতীয়মান হলেও ভৌগোলিক অবস'ার কারণে মাত্রাতিরিক্ত খাড়া ভুমি বৈশিষ্ট্রেল কারণে জনসাধারণের ভুমি ব্যবহার কমই করতে পারছে। যেটুকু ব্যবহারযোগ্য ভুমি রয়েছে তাও সেনাবাহিনী ও বিজিবি’র জন্য অধিগ্রহণ করা হলে লোকজন বসতিহীন হয়ে পড়বে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্মারকলিপিতে দুটি দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো- প্যারা কমান্ডো ট্রেনিং সেন্টারের নামে ৯ হাজার ৫৬০ একর ভুমি অধিগ্রহণ বাতিল করা এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর স'াপনা নির্মাণের জন্য আদিবাসীদের ভোগ দখলীয় ভুমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ করা।
বিকেল ৫টায় বান্দরবান প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রুমা উপজেলা ভূমি অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাধারণ সম্পাদক লুপ্রু মারমা। এতে বক্তব্য রাখেন ভুমি অধিকার সংরক্ষণ কমিটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়ামলিয়ান আমলাই (জুমলিয়ান বম), বান্দরবান জেলা জেএসএস সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, বান্দরবান সদর উপজেলা জেএসএস সভাপতি উছসিং মারমা। এসময় অন্যান্যের মধ্যে জনসংহতি সমিতি রোয়াংছড়ি উপজেলা সভাপতি ও রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অংশৈমং, ভুমিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বাসিংথুয়াই মারমা প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, রুমা উপজেলায় নতুন করে ভুমি অধিগ্রহণ করা হলে একদিকে যেমন আদিবাসীরা বসতি হারিয়ে বাস'হারা হবে, তেমনি বসতি হারি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিরূপ পরিবেশ দেখা দিবে। তারা রক্তের বিনিময় হলেও এই ভুমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধ করবে বলে অঙ্গীকার করেন।
এদিকে রুমা ভুমি অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি লুপ্রু মারমা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোর ৪টায় রুমা উপজেলা থেকে অধিগ্রহণ আওতার চারটি মৌজা ও স'ানীয় আদিবাসসহ কয়েকশহ আদিবাসী নারী-পুরুষ প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে রুমা উপজেলা থেকে বান্দরবান জেলা সদরে আগমন করে স্মারক লিপি ও প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন